অল্পের জন্য রক্ষা পেল সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেন

Posted by

দিনাজপুরের বিরামপুরে রেললাইন ভেঙ্গে যাওয়ায় অল্পের জন্য দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে পার্বতীপুরগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনটি।

বুধবার এই দুর্ঘটনার পর প্রায় সাড়ে ৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকে দেশের উত্তরের কয়েকটি জেলার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ। পরে দুপুর ১২টায় রেললাইন পুরোপুরি মেরামত করার পর আবার স্বাভাবিক হয় ওই লাইনের রেল চলাচল।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার ভোর সাড়ে ৫টায় খুলনা থেকে ৭৪৭ নং আপ আন্তঃনগর সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি পার্বতীপুর আসার সময় দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার পলাশবাড়ি রেলক্রসিংয়ের কাছে বিকট শব্দ হয়। স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে দেখে রেললাইনের প্রায় এক ফুট অংশ ভেঙ্গে গেছে।

এরপর সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে তারা সেখানে লাল কাপড় টাঙ্গিয়ে বিরামপুর রেলওয়ে স্টেশনে খবর দেয়। খবর পাওয়ার পর রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসে রেললাইন মেরামত করার কাজ শুরু করেন। লাইন ভাঙ্গার খবর পেয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পঞ্চগড় এক্সপ্রেসকে পাঁচবিবি স্টেশনে থামিয়ে দেন এবং চিলাহাটি থেকে রাজশাহীগামী ৭৩২নং বরেন্দ্র এক্সপ্রেসকে বিরামপুর স্টেশনে দাঁড় করিয়ে রাখেন।

ফলে বন্ধ হয়ে যায় উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারীসহ বেশ কয়েকটি জেলার সঙ্গে সারা দেশের রেলযোগাযোগ।

রেলওয়ের বিরামপুর স্টেশন মাস্টার মিজানুর রহমান জানান, সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি যাওয়ার সময় শেষ বগীর নিচে বিকট শব্দ হওয়ায় ওই ট্রেনের টিটি ইউসুফ আলী এবং স্থানীয়রা মোবাইল করে তাকে অবহিত করেন। এরপর বিষয়টি পিডব্লিউডি (রেলওয়ের লাইন মেরামতকারী বিভাগ) বিভাগকে জানানো হয়।

তারা দুই ঘণ্টা কাজ করার পর সকাল সাড়ে ৮টায় কয়েকটি ট্রেন কোনোরকমে পাস করে দেয়া হয়েছে। এরপর দুপুর ১২টায় পর্যন্ত কাজ চালিয়ে ওই লাইন দিয়ে রেল চলাচল স্বাভাবিক করে দেয়া হয়। ফলে প্রায় সাড়ে ৬ ঘণ্টা একপ্রকার বন্ধ থাকার পর উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারীসহ অন্যান্য জেলায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

স্থানীয়রা আশংকা প্রকাশ করেন, শেষ বগীটি যাওয়ার আগেই রেললাইনটি ভেঙ্গে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনায় পতিত হতো সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি।

স্থানীয় আব্দুল মান্নান জানান, এখানে রেল লাইন ভাঙ্গার ঘটনা এটিই প্রথম নয়, এর আগেও এখানে বেশ কয়েকবার অনুরূপ দুর্ঘটনা ঘটে। এ জন্য স্থায়ীভাবে রেললাইন মেরামতের দাবি জানান তারা।