ছেলের অপরাধে বাবা বা তার পরিবারের বিচার করবেন না : অনিকের বাবা

Posted by

আবরার হ’ত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অন্যতম ছাত্রলীগ নেতা অনিক সরকারের বাবা আনোয়ার হোসেন ছেলের কর্মকাণ্ডে হতাশ আর লজ্জিত।

তিনি বলেছেন, ‘ছেলে যদি অপরাধী হয় তবে তার বিচার হোক। ছেলের অপরাধে বাবা বা তার পরিবারের বিচার করবেন না। এক ফুলে ১০টা কুঁড়ি হলে ১০টাই ফল হয় না। অনিকও কুঁড়ি ছিল ফল হতে পারেনি। একজনকে দিয়ে পরিবারের বিচার করা উচিত নয়। আমি চাই প্রচলিত আইনে অনিকের বিচার হোক।’

আবরারকে পিটিয়ে হ’ত্যার তিন দিন পর বৃহস্পতিবার এভাবেই বলেন হ’ত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া অনিকের বাবা আনোয়ার হোসেন। তিনি একজন ব্যবসায়ী। রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার বরইকুড়ি গ্রামে বসবাস করেন। তার দুই ছেলের মধ্যে অনিক ছোট।

আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ছেলেকে পাঠিয়েছি পড়ালেখা করতে। অনেক কষ্ট করে তাকে টাকা পাঠিয়েছি মাসের পর মাস। কিন্তু কে জানত সে এ ধরনের অমানবিক কাজে জড়িয়ে যাবে। সব বাবা-মা চায় তার সন্তান ভালোভাবে পড়ালেখা করে পাস করে আসুক, বাবা-মার মুখ উজ্জ্বল করুক। কিন্তু অনিক এমন হ’ত্যার সঙ্গে জড়িয়ে যাবে ভাবতে পারছি না।’

তিনি বলেন, ‘আমি চাই কারও সন্তান যেন এমন না হয়। আইন সবার জন্য সমান। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমার ছেলে অপরাধী হলে প্রচলিত আইনে তার যে সাজা হবে আমি মেনে নেব। আমি চাই আমার ছেলের বিচার হোক। আমি আশা করব অনিকের মতো আর কেউ যেন ভুল পথে না যায়।’

আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘অনিক রাজশাহীতে থাকা অবস্থায় কোনো রাজনীতি করত না। কারও সাথে তেমন মিশতও না। কী করে সে রাজনীতিতে প্রবেশ করল তা জানি না। আমরা জানি অনিক সেখানে পড়ালেখা করছে। যখন জানতে পারলাম অনিক এক ছাত্রকে হ’ত্যা করেছে। সেই দায়ে তাকে আটক করেছে পুলিশ। তখন অবাক হয়ে গেছিলাম। ভাবতে পারিনি আমার ছেলে কাউকে খুন করতে পারে।’

তিনি আরও জানান, ‘সবাই বলছে আমার পরিবার নাকি বিএনপি-জামায়াতের পরিবার। আমি সবাইকে বলতে চাই, ছেলের অপরাধে বাবা বা তার পরিবারের বিচার করবেন না। আমরা আওয়ামী লীগের পরিবারের মানুষ, আজীবন আওয়ামী লীগেই থাকতে চাই।’

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অনিক সরকার ওরফে অপু ছোট থেকেই মেধাবী ছাত্র ছিল। সে মোহনপুর কেজি স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। অষ্টম শ্রেণিতেও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায় সে। ২০১৩ সালে একই বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে এসএসসি পাস করে। পরে ঢাকা নটর ডেম কলেজে ভর্তি হয় এবং জিপিএ ৫ পেয়ে ২০১৫ সালে এইচএসসি পাস করে। একই সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়ে (বুয়েট) ভর্তি হয়। বর্তমানে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র।

মোহনপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভাইস চেয়ারম্যান মেহবুব হাসান রাসেল বলেন, ‘অনিক অপরাধী হতে পারে। প্রচলিত আইনে তার বিচার হবে। কিন্তু অনিকের বাবা আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ একজন কর্মী। এমনকি তার পরিবারের প্রবীণ সদস্যরাও স্বাধীনতার আগ থেকে আওয়ামী লীগ করে আসছেন।’