মহিলা লীগের নেত্রীদের অপকর্মে বিব্রত নেতারা!

Posted by

সিলেটে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠনের নেত্রীদের নানা বিতর্কিত ও অপকর্মে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে মূল সংগঠনের নেতাদের। দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ করতে যাচ্ছেন নেতারা। জাতীয় মহিলা পার্টি ও যুব মহিলা লীগের কয়েকজন নেত্রীর অপকর্ম এখনো সিলেটের মুখে মুখে। এতে সংগঠনের ভাবমূর্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। গত ২৫ আগস্ট সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের উপহার কমিউনিটি সেন্টারের পাশ্বর্বর্তী একটি বাড়ি থেকে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে তিন নারীসহ ১৯ জনকে আটক করে জনতা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই বাড়িতে প্রায়ই অসামাজিক কাজের আসর বসত। আটক ওই তিন নারীর মধ্যে সিলেটের দুই নারীনেত্রীও ছিলেন। এদের একজন সিলেট জেলা জাতীয় মহিলা পার্টির সাধারণ সম্পাদক হেনা বেগম আর অপরজন হচ্ছেন সিলেট জেলা যুব মহিলা লীগের অর্থ সম্পাদক মিনারা বেগম। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরদিন ৫৪ ধারায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় জৈন্তাপুর থানা পুলিশ। অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এলাকার লোকজন তাদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে বলে জানিয়েছেন জৈন্তাপুর থানার ওসি শ্যামল বণিক।

অসামাজিক কাজে দুই নারীনেত্রী আটকের ঘটনা সিলেটে মুখরোচক নানারকম গল্প জন্ম দিয়েছে। এই দুই নেত্রীর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার অসামাজিক কর্মকান্ডের অভিযোগ উঠেছিল। এদিকে, কয়েক মাস আগে লন্ডনীকন্যা সেজে বিয়ের নামে প্রতারণার অভিযোগ ওঠে সিলেট মহানগর মহিলা পার্টির সভানেত্রী শিউলি আক্তারের বিরুদ্ধে। নিজেকে লন্ডনীকন্যা পরিচয় দিয়ে বিয়ের নামে এক যুবককে ধাপ্পা দিয়ে তার কয়েক লাখ টাকা শিউলি হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশ হয়। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিউলি আক্তার। সদ্য ঘোষিত জাতীয় মহিলা পার্টির কমিটিতে শিউলি আক্তারকে সিলেট বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত করা হয়েছে। কয়েক দিন পর পর এসব নারীনেত্রীর অপকর্মের ঘটনা ফাঁস হলে নিজেরা বিব্রত না হলেও লজ্জায় পড়তে হচ্ছে মূল সংগঠনের নেতাদের। মানুষের মুখে মুখে ফেরা নানা মুখরোচক গল্পে বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন তারা।

এ ব্যাপারে সিলেট জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব উছমান আলী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, জাতীয় মহিলা পার্টির যেসব নেত্রীর বিরুদ্ধে অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে তাদের ব্যাপারে আমরা কেন্দ্রকে জানাব। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কেন্দ্রকে সুপারিশ করা হবে। এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, শোকের মাসে যুব মহিলা লীগের এক নেত্রী অসামাজিক কর্মকাে জনতার হাতে ধরা পড়েছেন। এর চেয়ে বড় লজ্জার আর কী হতে পারে। এরকম ঘটনায় আমাদের মাথা নিচু হয়ে যায়। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনে এরকম মানুষের ঠাঁই হবে না। এদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।