পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার ১১টি অসাধারণ স্বাস্থ্য উপকারিতা !

Posted by

চারদিকে ডেঙ্গুসহ নানা রোগে ভুগছে মানুষ। বর্তমানে ডেঙ্গ জ্বরের প্রভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পোকা-মাকড়ের আক্রমণ থেকে বাঁচতে দোয়া শিখিয়েছেন।

আবার যারা অসুস্থ হয়ে যেতেন তাদের পাশে গিয়ে দোয়া করতেন। তাদের সুস্থতায় তাদের গায়ে (শরীরে) হাত বুলিয়ে দোয়া করতেন। যাতে অসুস্থ ব্যক্তি আরোগ্য লাভ করে। হাদিসে এসেছে-

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমাদের মধ্যে কেউ যখন অসুস্থ হয়ে যেত, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসুস্থ ব্যক্তির গায়ে (শরীরে) তাঁর ডান হাত বুলাতেন এবং বলতেন-

উচ্চারণ : আজহিবিল বাসা রাব্বাননাসি- ওয়াশফি আংতাশ শাফি লা শিফাআ ইল্লা শিফাউকা- শিফাআন লা ইউগাদিরু সাক্বামা।’

অর্থ : হে মানুষের প্রতিপালক! এ রোগ দূর করে দিন এবং আরোগ্য দান করুন। আপনিই আরোগ্য দানকারী। আপনার আরোগ্য ব্যতীত কোনো আরোগ্য নেই। এমন আরোগ্য, যা বাকি রাখে না কোনো রোগ।’ (বুখারি, মিশকাত)

সুতরাং ডেঙ্গুসহ সব রোগের বেলায় প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ আমলটি করা যেতে পারে। আশা করা যায়, আল্লাহ তাআলা সব রোগ থেকে মানুষকে মুক্তি দান করবেন।

বিশেষ করে ডেঙ্গু মশাসহ পোকা-মাকড়ের আক্রমণ থেকে হেফাজতে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ আমলটিও করা আবশ্যক।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শেখানো দোয়াটি হলো-

উচ্চারণ : আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিং শাররি মা খালাক্বা।

অর্থ : আমি আল্লাহর সব পূর্ণ কালেমাসমূহের উসিলায়, তাঁর সৃষ্ট সব (বিষাক্ত) প্রাণীর অনিষ্টতা থেকে আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয় নবির প্রিয় আমল ও দোয়াগুলো যথাযথ আদায় করার মাধ্যমে অসুস্থতা থেকে সুস্থতা লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

শরীর সুস্থ রাখতে যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি….

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শরীরের সাদকাহ আদায়ের কথা বলেছেন। মানবদেহে অনেক জোড়া রয়েছে, প্রতিটি জোড়ার হক আদায় করার কথাও বলেছেন তিনি। শরীরের এ সাদকাহ বা জোড়ার হক আদায়ে প্রতিদিন সালাতুজ জোহা বা চাশতের নামাজ পড়তে বলেছেন।

যারা চাশতের ২ কিংবা ৪ রাকাআত নামাজ পড়বে, ওই ব্যক্তি শরীরের সাদকাহ বা জোড়ার হক আদায় হয়ে যাবে। আবার ভালো কাজ ও ভালো আচরণেও শরীরের হক আদায় হয় বলেছেন বিশ্বনবি।

বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে শরীরকে সুস্থ রাখতে সকাল সন্ধ্যা দোয়ার আমল করতে বলেছেন। বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকাল-সন্ধ্যায় ৩ বার নিজের শরীর মোবারককে সুস্থ রাখতে এ দোয়া পড়তেন-

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আফেনি ফি বাদানি, আল্লাহুম্মা আফেনি ফি সাময়ি, আল্লাহুম্মা আফেনি বি বাসারি; লা ইলাহা ইল্লা আন্তা।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমার দেহ সুস্থ রাখুন। হে আল্লাহ! আমাকে সুস্থ রাখুন আমার শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে। হে আল্লাহ! আমাকে সুস্থ রাখুন আমার দৃষ্টিশক্তিতে। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নাই।’

মুমিন মুসলমানের উচিত, প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পড়া দোয়ায় নিজেদের শারীরিক সুস্থতার জন্য সকাল-সন্ধ্যায় তথা ফজর ও মাগরিবের নামাজের পর বেশি বেশি এ দোয়া করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে শরীর সুস্থ রাখতে বিশ্বনবির শেখানো এ দোয়া বেশি বেশি পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। নামাজ হল ইসলাম ধর্মের প্রধান উপাসনাকর্ম। প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। কিন্তু অনেকেই জানেন না নামাজ সাস্থের জন্য অনেক উপকারী।

নামাজ পড়ার মাধ্যমে আমাদের শরীরের বেশকিছু অঙ্গপ্রত্যঙ্গের নাড়াচাড়া হয় যা এক প্রকার ব্যায়াম। এই ব্যায়াম স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারি। চলুন জেনে নেই নামাজ পড়ার ১১টি স্বাস্থ্য গত উপকারিতা সম্পর্কে:

১। নামাজে যখন সিজদা করা হয় তখন আমাদের মস্তিস্কে রক্ত দ্রুত প্রবাহিত হয়। ফলে আমাদের স্মৃতি শক্তি অনেকবৃদ্ধি পায়।

২। নামাজের যখন আমরা দাড়াই তখন আমাদের চোখ জায়নামাজের সামনের ঠিক একটি কেন্দ্রে স্থির অবস্থানে থাকে ফলে মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।

৩। নামাজের মাধ্যমের আমাদের শরীরের একটি ব্যায়াম সাধিত হয়। এটি এমন একটি ব্যায়াম যা ছোট বড় সবাই করতে পারে।

৪। নামাজের মাধ্যমে আমাদের মনের অসাধারন পরিবর্তন আসে।

৫। নামাজ সকল মানুষের দেহের কাঠামো বজায় রাখে। ফলে শারীরিক বিকলঙ্গতা লোপ পায়।

৬। নামাজ মানুষের ত্বক পরিষ্কার রাখে যেমন ওজুর সময় আমাদের দেহের মূল্যবান অংশগুলো পরিষ্কার করা হয় এর ফলে বিভিন্ন প্রকার জীবানু হতে আমরা সুরক্ষিত থাকি।

৭। নামাজে ওজুর সময় মুখমন্ডল ৩ বার ধৌত করার ফল আমাদের মুখের ত্বক উজ্জল হয় এবং মুখের দাগ কম দেখা যায়।

৮। ওজুর সময় মুখমন্ডল যেভাবে পরিস্কার করা হয় তাতে আমাদের মুখে একপ্রকার মেসেস তৈরি হয় ফলে আমাদের মুখের রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং বলিরেখা কমে যায়।

৯। কিশোর বয়সে নামাজ আদায় করলে মন পবিত্র থাকে এর ফলে নানা প্রকার অসামাজিক কাজ সে বিরত থাকে।

১০। নামাজ আদায় করলে মানুষের জীবনি শক্তি বৃদ্ধি পায়।

১১। কেবল মাত্র নামাজের মাধ্যমেই চোখের নিয়ম মত যত্ন নেওয়া হয়। ফলে অধিকাংশ নামাজ আদায় কারী মানুষের দৃষ্টি শক্তি বজায় থাকে।