মাদকাসক্ত পুলিশ কনস্টেবলের ছুরিকাঘাতে মৃত্যুশয্যায় ছোটভাই

Posted by

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে পুলিশ কনস্টেবল মো. মামুন বাদশার (৩২) ছুরিকাঘাতে সৎ ভাই রবিউল ইসলাম মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। গতকাল শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে উপজেলার চাড়োল ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে রবিউল বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনার পর মামুন পালিয়ে গেলে স্থানীয়রা তার মা মনোয়ারা বেগমকে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে।

ঘাতক পুলিশ কনস্টেবল মামুন বাদশা ও আহত রবিউল ইসলাম ওই এলাকার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নাজিম উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় আহত রবিউলের মা ও মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রী আনোয়ারা বেগম শুক্রবার রাতে বাদী হয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের বেডে ব্যাথা ও যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন রবিউল। পাশে বসে সন্তানের এ অবস্থায় প্রলাপ বকছেন মা আনোয়ারা বেগম।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বালিয়াডাঙ্গী থানার এসআই ও এ মামলার আইও রাশেদুজ্জামান হেলাল জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে ঘাতক মামুন বাদশার মা ও মামলার ২ নম্বর আসামি মনোয়ারা বেগমকে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই পালিয়ে যায় মামুন বাদশা। তার নামে বালিয়াডাঙ্গী থানায় আরো দুটি মামলা আছে।

পুলিশ কনস্টেবল কর্তৃক চাকু মেরে সৎ ভাইকে হত্যা চেষ্টার বিষয়ে জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার মোহা. মনিরুজ্জামান জানান, বিষয়টি অবগত আছি। এ ঘটনায় বালিয়াডাঙ্গী থানায় একটি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া আসামিকে ধরতে সকল থানায় মেসেজ পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, কনস্টেবল মামুন বাদশার উশৃঙ্খল জীবন-যাপনসহ তার মুক্তিযোদ্ধা পিতার আর্থিক ক্ষতি, প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় তার বাবা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দিন বাদী হয়ে চলতি বছরের মে মাসে বালিয়াডাঙ্গী থানায় মামুন বাদশাকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। যা এখনও আদালতে বিচারাধীন। এ ছাড়া চাকরিকালীন সময়ে প্রথম স্ত্রী থাকাবস্থায় আরো একটি বিয়ে করায় প্রথম স্ত্রীর দায়ের করা মালায় কিছুদিন জেলও খেটেছেন তিনি।