খোঁজ নেয়না ছেলেমেয়ে, চা বিক্রি করেই সংসার চলে বৃদ্ধ দম্পতির

Posted by

ফজর আলীর বয়স একশর বেশি। জয় বাহারের বয়স সত্তর। ৫৫ বছর আগে ঘর বাঁধেন তারা। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে তাদের।

বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এ দম্পতি জীবনের শেষ বয়সে এসেও নিজেদের রুটি-রুজি করতে চা বিক্রি করেন। মানিকছড়ি উপজেলা সদরের সরকারি খাস জমিতে তৈরি করা টঙ দোকানই এখন তাদের একমাত্র ভরসা।

জানা গেছে, গত ১৫ বছর ধরে মানিকছড়ি গিরি কলি কিন্ডার গার্টেন স্কুলের সামনের সরকারি খাস জায়গায় তৈরি করা একটি ছোট দোকান করে রুটি-রুজির সংস্থান করেন ফজর আলী দম্পতি। আবার এ দোকানের একপাশে ছোট্ট কামরাতেই বাস করেন তারা। প্রতিদিন এই চা দোকান থেকে যে কয় টাকা পান তা দিয়েই চলে ফজর আলী দম্পতির সংসার।

অভাব দূর করতে গচ্ছিত অর্থে একমাত্র ছেলে মো. নজরুল ইসলামকে বিদেশ পাঠান ফজর আলী। কিন্তু তার পরিবারের নয়, দিন বদল হয়েছে শুধু ছেলের সংসারের। বিদেশ গিয়েই বদলে গেছে ছেলে। বিদেশে আয়-রোজগার করে ফেনীর শ্বশুর বাড়িতেই স্ত্রীর নামে বাড়ি করে সেখানেই স্থায়ী হয়েছেন। বেঁচে থাকার তাগিদে প্রতিদিন এভাবেই সংগ্রাম করে যাচ্ছেন এ দম্পতি।
5
ফজর আলী বলেন, একমাত্র মেয়ে মিনারা বেগম স্বামী-সন্তান নিয়ে মানিকছড়ির এতালং পাড়ায় বসবাস করছে। মানিকছড়ি উপজেলা সদরের অদূরে নিজের দুই একর টিলাভূমি থাকলেও জীবিকার তাগিদে স্থায়ী হয়েছেন উপজেলা সদরের সরকারি খাস জমিতে।

শারীরিক সামর্থ্য না থাকলেও পেটের দায়ে দোকান চালিয়ে নেন এ বৃদ্ধ দম্পতি। বয়োবৃদ্ধ স্বামীর পক্ষে দোকান সামলানো সম্ভব নয় বলে তাকে সবসময় সহযোগিতা করেন স্ত্রী জয় বাহার।

তিনি জানান, সরকারি সহযোগিতা বলতে মাসিক পাঁচশ টাকা করে তারা দুজনই বয়স্ক ভাতা পান। তবে তাও তিন মাস পরপর। যা দিয়ে আমাদের দুজনের সংসার চালিয়ে নেয়া অসম্ভব। তাই দোকান দিয়ে বসেছেন। এ থেকে যা আয় হয় তাতেই তাদের কোনো রকমে চলে যায়।

সরকারি-বেসরকারি সাহায্য দুই সদস্যের এ পরিবারটিকে জীবনের যুদ্ধ থেকে মুক্তি দিতে পারে বলে মনে করছেন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্মার্ট মানিকছড়ির প্রতিষ্ঠাতা মো. শরীফুল ইসলাম। সরকারি উদ্যোগে অনেক গৃহহীনের জন্য দুর্যোগ সহনীয় ঘর তৈরি হলেও সে সুবিধা এ দম্পতির ভাগ্যে জোটেনি জানিয়ে এ বিষয়ে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।