ছাত্রদলের কাউন্সিলে শেষ মুহূর্তের প্রচারনায় আলোচনার শীর্ষে শাহ্ নাওয়াজ

Posted by

buy generic priligy online দীর্ঘ ২৭ বছর পর আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হতে যাচ্ছে। এবারের কাউন্সিলকে ঘিরে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসাহ উদ্দীপনা। এদিকে ছাত্রদলের কাউন্সিল উপলক্ষ্যে ১৯ দফা ইশতেহার ঘোষণা করে এবং খোলা চিঠি দিয়ে বেশ আলোড়ন তুলেছেন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শাহ্ নাওয়াজ। জানা যায়, ছাত্রদলের ৬ষ্ট কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদে ১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।

যাদের বেশিরভাগই ছাত্ররাজনীতির তীর্থস্থান খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উঠে আসা। এদের মধ্যে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, প্রচার-প্রচারণায় ব্যতিক্রম উদ্যোগ নিয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে বেশ আলোচনায় আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক শাহ্ নাওয়াজ। ইতোমধ্যে সারাদেশে প্রতিটি জেলায় তিনি সফর করেছেন। প্রতিটি জেলা থেকে পাচ্ছেন সাড়া জাগানো সমর্থন। কাউন্সিলরদের মাঝেও তাকে নিয়ে রয়েছে ব্যাপক উৎসাহ। ১/১১’র সরকারের সময় এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে সাহসী ভূমিকা ও বার বার নির্যাতনের শিকার হওয়ায় কাউন্সিলরদের মাঝেও তার আলাদা জনপ্রিয়তা রয়েছে। এরবাইরে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলার বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও সাবেক ছাত্রদল নেতারাও শাহ্ নাওয়াজের পক্ষে থাকায় তিনি অন্যান্য প্রার্থীদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন। এদিকে ছাত্রদলকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে তার দেওয়া ১৯ দফা ইশতেহার ও খোলা চিঠিও কাউন্সিলরদের মাঝে বেশ সাড়া জাগিয়েছে।

ইশতেহারে শাহ্ নাওয়াজ “বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ”-এর প্রসার, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে আধুনিক বাংলাদেশ বির্নিমাণ, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম, শিক্ষাঙ্গনে পড়োশোনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনাসহ ছাত্রদলকে ঢেলে সাজাতে ও বেগবান করতে ‌আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক সেল, ডেমোক্রেটিক ফাইটার ফান্ড, আর্জেন্ট রেসপন্স সেল, লিগ্যাল এইড সেল এবং গবেষণা সেল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। যা ছাত্রদল নেতা-কর্মী ও কাউন্সিলরদের মাঝে এক অনন্য উদ্যোগ হিসেবে আলোচনা হচ্ছে। এছাড়া কউন্সিলরদের উদ্দেশ্যে দেওয়া শাহ্ নাওয়াজের খোলা চিঠিও বেশ আলোড়ন তুলেছে। খোলাচিঠিতে তিনি কাউন্সিল আয়োজনের মাধ্যমে ছাত্রদলের নেতৃত্ব নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়ায় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। এছাড়া চিঠিতে তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ জিয়াউর রহমানের ভূমিকা, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন সংগ্রাম, বিএনপি’র জন্য নিজ পরিবারের ত্যাগ ও ভূমিকা এবং ১/১১’র সরকার থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে নিজের আহত ও নির্যাতন হওয়ার বর্ণনা তুলে ধরেছেন। জানা যায়, শাহ্ নাওয়াজের বাবা মাওলানা আবদুল হাই চেয়ারম্যান নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ঐ পদে ছিলেন। তার অন্য ভাইরাও বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের রাজনীতির সাথে জড়িত। আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে শাহ্ নাওয়াজ বেশ কয়েকবার পুলিশ ও ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলেও জানা যায়।

এর মধ্যে ২০১০ সালে মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের হামলার শিকার, ২০১৫ সালে পার্টি অফিসের পশ্চিম পাশে পুলিশি হামলায় রক্তাক্ত হওয়ার কথা, ২০১৮ সালে বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবির মিছিলে পুলিশি হামলায় ফের আহত হওয়া এবং ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে হাতিয়াতে যুবলীগ-ছাত্রলীগের হামলায় মারাত্মক আহত হয় বলেও জানা যায়।

ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক ফয়েজ উল্লাহ ফয়েজ বলেন, শাহ্ নাওয়াজ দলের পরীক্ষীত নেতা। ১/১১ সরকারের সময়ে তারেক রহমানকে গ্রেফতারের প্রতিবাদের মিছিলেও সে ছিল। এছাড়াও অনেকবার ছাত্রলীগ ও পুলিশের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আমার বিশ্বাস, তৃণমূলের নেতারা তাঁর ত্যাগ-তিতিক্ষার যোগ্য মূল্যায়ন করবেন।

শাহ্ নাওয়াজ বলেন, আমি সবসময় রাজপথেই ছিলাম। ১/১১, ২০১৩, ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে বারবার আহত-নির্যাতনের শিকার হয়েছি। জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ রাজনীতি প্রসারের জন্য, আমাদের মা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমার লড়াই চালিয়ে যাব। সেই লড়াই চালাতে গিয়ে আমার প্রিয় কাউন্সিলরদের সহযোগিতা কামনা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.